দেশের শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গত প্রায় ছয় মাস ধরে স্থায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) ছাড়াই চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের ‘রোষানলে’ পড়ে গত অক্টোবরে সাবেক ডিজির পদত্যাগের পর থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাস পার হলেও এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাউশি’র মহাপরিচালক ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের সাথে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। গত ৬ অক্টোবর প্রচলিত রীতি ভেঙে মাউশি’র ডিজি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পরদিনই ড. আজাদ খান পদত্যাগের আবেদন করেন এবং ১৬ অক্টোবর তাঁকে ওএসডি করা হয়।
সাবেক ডিজি ড. মুহাম্মদ আজাদ খান এই বিষয়ে বলেন, “সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা নানা কারণে আমার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। পরে আমি নিজেই পদত্যাগের আবেদন জমা দিই।” সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি’র কিছু অসাধু ব্যক্তির তদবির রক্ষা না করায় এবং পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ইস্যুতে উপদেষ্টার সাথে মতপার্থক্যের কারণে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
স্থায়ী ডিজি না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মাউশির কার্যক্রম। শীর্ষ কর্মকর্তা না থাকায় চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দাপ্তরিক কাজে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিদিন নানাবিধ প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজের জন্য এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে ফাঁকা হওয়া এই শীর্ষ পদে বসতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে ব্যাপক তদবির। মাউশির একজন বর্তমান পরিচালক, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তিনি এখন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনেরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত মাউশিতে একজন দক্ষ ও স্থায়ী মহাপরিচালক নিয়োগ না দিলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তরের প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
