আরিফ জেবতিক
বিএনপিকে একটি ফাও বুদ্ধি দেই। সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পরিষদের মতো আপনারা ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক বসিয়ে দিন। কিন্তু সেখানে এসব ডেট এক্সপায়ার লোক বসিয়েন না।
প্রশাসক হিসেবে তরুণদের নেন, যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫। তাহলে আপনারা প্রচুর তরুণদেরকে ভালো এক্সপোজার দিতে পারবেন, এখান থেকে ভবিষ্যতের নেতা তৈরি হবে। ধরা যাক একটা থানায় ৮টা ইউনিয়ন। তাহলে ৮ জন তরুণকে সুযোগ দিতে পারলেন। এদের মধ্যে ২/৩ জন কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাবে, ২ জন হাসটাস খেয়ে দুর্নীতি করে পেট ফুলাবে, কিন্তু বাকি ৩ জন মোটামুটি স্থানীয় নেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। তাঁরা ভালো সার্ভিস দিলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান হতে পারবে। তাঁদের হাতে থাকবে দীর্ঘ সময়। ২৫ বছরের একজন তরুণ পরের ৪০ বছর এলাকায় পার্টিকে সার্ভিস দেবে।
তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে গুপ্ত ঢুকে না পড়ে। বিগত ১০ বছর যারা ছাত্রদল বা যুবদল করেছে, শুধু তাঁদের মধ্য থেকে নেবেন। কারণ গুপ্তরা ১০ বছর ছাত্রলীগ করেছে। ছাত্রদল বা যুবদল করার লম্বা ইতিহাস যাদের আছে, তাঁরা আপনাদের নিজেদের লোক।
হ্যাঁ, তারপরও সেখানে গুপ্ত থাকার ভয় থাকে। সব গুপ্ত তো ছাত্রলীগ করেনি, কিছু নিশ্চয়ই বিএনপিতেও ঢোকানো আছে।
সেটা বাছাইয়ের সহজ পদ্ধতিও বলি। বলে দেবেন যে, সবার ইন্টারভিউ হবে। যারা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা মুখস্থ বলতে পারবে, শুধু তারাই প্রশাসক হতে পারবে। নির্ধারিত দিনে সবার ইন্টারভিউ নিন।
তারপর দেখান আসল খেলা।
যারা ১৯ দফার সব দফা বলতে পারবে, এদের সবগুলোকে বাদ দিয়ে দিন। এগুলো গুপ্ত। গুপ্তরাই এত প্রিপারেশন নিয়ে আসবে।
আর যারা বলতে পারবে না, এদের থেকে প্রশাসক দিন, এরা আপনাদের সত্যিকারের পার্টিজান।
প্রকৃত বিএনপি সমর্থক এসব মুখস্থ করার ধার ধারে না, ট্রাস্ট মি।
তারেক রহমানকে জিজ্ঞেস করে দেখেন, ১৯ দফা উনি মুখস্থ বলতে পারবে না। শুধু যেগুলোকে গুপ্ত বলে সন্দেহ হয়, দেখবেন এরা গড়গড়িয়ে বলে দেবে।
