জুলাইতে যারা প্রোফাইল লাল করেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন রাগ-ক্ষোভ নাই। আমি মনে করি অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকেও যৌক্তিকভাবে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে প্রোফাইল লাল করেছিল। এর মানেই তারা জামাত বা বিএনপির সমর্থক এমন না।
আমার পরিচিত আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থকও প্রোফাইল লাল করেছিল। এদের মধ্যে যারা এখন বোঝে জুলাই-অগাস্ট ছিল মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তাদের আমি বুকে টেনে নিতে প্রস্তুত। আওয়ামী লীগকেও দলীয়ভাবে সেই অবস্থানে যেতে হবে।
যারা এর বিরোধীতা করবে তাদের দিয়ে দল ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কোটি কোটি লাল প্রোফাইলের মানুষদের বাদ দিয়ে ক্ষমতায় যাবার সামর্থ্য আওয়ামী লীগের শেষ হয়েছে।
আমি যখন লালবদরদের গালি দিই, তখন প্রোফাইল পিকচার দেখে কেবল গালি দিই না। আদর্শও আমলে নিই। এরা কি কথাবার্তায় ইনকিলাব-ইনসাফ ব্যবহার করে? পাকিস্তানের জিকির করে? ইসলামী শাসন চায়? এসবও দেখি!
আমাদের চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করতে হবে। জুলাইতে সাকিব ক্যানাডায় ঘুরছিল আর ইউনুস ঘুরছিল ফ্রান্স, আমেরিকায়। দুইজনের কেউই প্রোফাইল লাল করে নাই। একজনকে আপনি ফ্যাসিস্ট আরেকজনকে প্রধান উপদেষ্টা বানাবেন এটা কোন ষড়যন্ত্রের অংশ সেটা আমরা বুঝি।
তবে আমি নিজে বারংবার আওয়ামী লীগ ও ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের নেতা-কর্মীদের তাদের ভুল কৌশল নিয়ে সতর্ক করেছি, এটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। যেসব মাথামোটারা তখন আমার সাথে কুতর্ক করেছিল, তারা ৫ অগাস্টেই প্রোফাইল বন্ধ করে পালিয়েছিল। এখন আবার এসে বুদ্ধিহীন হম্বিতম্বি শুরু করেছে যদিও!
ওই সময়ে আমি আমার প্রোফাইল লাল করিনি। জুলাইর শেষে আমি দুটো বিষয় নিশ্চিত হয়েছিলাম: ১) শেখ হাসিনা সরকারের পতন হতে যাচ্ছে, অনেকটাই নিজেদের কৌশলগত ব্যর্থতায়, ২) এই আন্দোলনের সাথে কোটার কোন সম্পর্ক ছিল না, এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধের ষড়যন্ত্র যার সূত্রপাত হয়েছিল হেফাজতের ২০১৩’র জিহাদি আগ্রাসনের মাধ্যমে।
ফলশ্রুতিতে আমি অত্যন্ত গর্বিত যে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধের অংশ হিসেবে লাল প্রোফাইলের যে ক্যাম্পেইন সেটি এড়িয়ে যাবার মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আল্লাহ আমাকে দিয়েছিলেন।
লেখকঃ শামীম আহমেদ
