সামিউল বাসির বিন হোসেন
যারা মনে মনে মনকলা খাচ্ছেন এই ভেবে যে তারেক রহমান হয়তো এবার আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে কিছুটা ছাড় দিবেন, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা। তারা রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে চাকরি-বাকরি ব্যবসাবাণিজ্য করার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি আপনাদের জন্য না।
আর যারা আমার মতো আগামী ৫-৭ বছর সর্বোচ্চ অত্যাচার সহ্য করে জীবন দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগ করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন, আপনাদেরকে মুজিবীয় সালাম জানাই। আপনারাই আমার ভাই, আমার বোন, আমার পরিবার। আমরা সবাই মিলে আগামীতে আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়বো।
কিছু কথা আজকে বলি, মিলায়া নিয়েন।
১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে এলাকাভিত্তিক আওয়ামী লীগের অনেক নিরীহ সমর্থক লেভেলের ভোটারকেই চাপ দিয়ে ভোটকেন্দ্রে নেয়া হয়েছিলো, এটা অস্বীকারের কিছু নাই। এলাকাগুলোতে না হলে থাকতে পারতোনা তারা। এই ভোটগুলোর অধিকাংশই বিএনপির ভোটবাক্সে গেছে, সেটা এলাকায় স্রেফ ঘরবাড়িতে থাকার জন্য কিংবা জামাতকে আটকানোর জন্য হলেও।
এবং এটুকু কনফার্ম থাকেন, বিএনপি এই বিষয়টায় মজা পেয়ে গেছে। তারা এখন আগামীতেও একই ফায়দা সর্বোচ্চ ভাবে নেয়ার চেষ্টা করবে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের জিম্মি করে সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার সবকিছুতে নিজেদের লোক বসাবে। প্রয়োজনে ইউনুসের চাইতেও দ্বিগুণ বুলডোজার চালাবে যাতে চাপে পড়ে জানে বাচতে হলেও বিএনপির বাক্সে ভোট পড়ে এলাকায় থাকা আওয়ামী লীগের নিরীহ সমর্থকদের।
আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। নিজেদের রাস্তা নিজেরাই অতীতে তৈরি করে নিয়েছে, আগামীতেও নিজেদেরকেই তৈরি করতে হবে। ইউনুসের ১৮ মাস যতোটা খারাপ কাটিয়েছেন, সামনে তার চাইতেও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। সেই সময়টাতে স্রেফ টিকে থাকাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
দল যদি মনে করে, অতীতে যারা দল বিক্রি করেছে তাদের দিয়েই সামনে আবারো দল চালাবে তাহলে আগামী ২০ বছরেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নাই। কথা সিম্পল, যাদেরকে নিজের দলের কর্মীরাই ঘৃণা করে তাদেরকে দেশের জনগণ মেনে নিবে এরকম ভাবাটা সম্পূর্ণ ভুল কাজ।
সাবেক অগণিত ছাত্রলীগ নেতা আছে যাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক ফোঁটা দাগ নেই। অভিজ্ঞ অনেক সিনিয়র আছেন যারা নেতাকর্মী কিংবা জনগণ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। ৬৫ পারসেন্ট নবীন এবং ৩৫ পারসেন্ট অভিজ্ঞ এবং গ্রহণযোগ্য প্রবীণের সমন্বয়ে সাংগঠনিক কমিটি জেলায় উপজেলায় দেয়া শুরু করুন। নিষেধাজ্ঞা পাত্তা দেয়ার কিছু নাই, এরেস্ট হলে হবে কমিটি ঘোষণার পর। দায়িত্ব পালন করার জন্য এরেস্ট হতে অসংখ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুখিয়ে আছে। আওয়ামী লীগ একমাত্র জনগণ ছাড়া কাউকে কোনোদিন সালাম দেয় নাই, অবৈধ ইউনুসের সময় দেয়া নিষেধাজ্ঞা তাহলে পাত্তা দিবে কি জন্য?
এখন থেকে, জাস্ট এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে আওয়ামী লীগের। যা হওয়ার হবে। নেতাকর্মী সমর্থকদের জীবনের মুল্য আছে। তাদেরকে বিএনপির বাক্সে ভোট ফালানোর জন্য সামনে আর জিম্মি হওয়ার সুযোগ দিয়েন না। নেতারা দেশে আসেন, এরেস্ট হলে হবেন। এরেস্ট হওয়াটা বিরোধী রাজনীতির স্বাভাবিক বিষয়। আপনারা হাইপ্রোফাইল ৫ জন নেতা দেশে এসে এয়ারপোর্টে এরেস্ট হলে লাখ লাখ কর্মী মুহুর্তে চাঙ্গা হয়ে যাবে। নেত্রী কবে দেশে আসবে, নেত্রীর সাথে সাথে আসবেন, সেই আশায় থাইকেন না। কর্মীদের জীবন নিয়ে আর খেইলেন না।
বিএনপি এমনিতেও ৫ বছরের টার্ম সম্পূর্ণ করতে পারবেনা। ইউনুস দেশের কোষাগার খালি করে রেখে গেছে। দেশ চালানোর টাকা নাই। সেই সাথে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পেটে ১৭ বছর ধরে ক্ষিদা। আগামী ১-২ বছর টাকার জন্য এলাকাভিত্তিক অসংখ্য আকাম কুকাম করে তারা এমনিতেই অজনপ্রিয় হয়ে যাবে। দেশের প্রয়োজনে জনগণই আওয়ামী লীগের জন্য একসময় নামবে।
সেই সময়টা পর্যন্ত বিদেশে নিরাপদে থাকার জন্য আপনাদের পর্যাপ্ত আর্থিক ব্যাকআপ হয়তো আছে, দেশের অধিকাংশ কর্মীদের সেটা নাই। দেশের জনগণ একসময় রাস্তাতেও নামবে আওয়ামী লীগের জন্য, আপনারাও দেশে ফিরবেন। সেই পর্যন্ত স্রেফ ক্ষিদার যন্ত্রণা এবং স্থানীয় পারিপার্শ্বিক চাপে অসংখ্য ত্যাগী কর্মী একেবারে নাই হয়ে যাবে।
কর্মীদের জীবন নিয়ে প্লিজ খেলা কইরেন না। সিদ্ধান্ত নিন, মাঠে নামুন। রাজপথের দল আওয়ামী লীগের গায়ে গত ১৯ মাস অনলাইন প্লাটফর্মের তকমা লেগে গেছে। আমরা রাজনৈতিক কর্মী, কোনো অনলাইন একটিভিস্ট নই। আমাদেরকে রাজপথে নামানোর ব্যবস্থা করুন।
আরো অসংখ্য কথা আছে, যেগুলো একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি ফেসবুকে বলতে পারি না কারণ সেগুলো বললে কর্মীদের মনোবল নষ্ট হয়ে যাবে, রাজনীতির ওপর বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। সেসব বিষয় তাই এড়িয়ে যাচ্ছি।
শুধু একটা জিনিসই চাচ্ছি, কর্মীদেরকে আপনারা নিজেরা নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথে নামান অথবা খোদা হাফেজ বলে দিন। কর্মীদের জীবনের মূল্য আছে। তাদের ইমোশন ব্যবহার করে অনেক ফায়দা নিয়েছেন ক্ষমতার সাড়ে ১৫ বছর। এবার অন্তত কর্মীদের ইমোশনকে ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
