দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। উত্তরাঞ্চলে দ্রুত ও কম খরচে পরিশোধিত জ্বালানি তেল পৌঁছে দিতে নির্মিত ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বর্তমানে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই পাইপলাইনটি ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ এটি উদ্বোধন করা হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় এর অর্থায়নের বড় অংশ বহন করে ভারত। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশে আসছে।
এর আগে চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগত এবং পরিবহন ব্যয়ও বেশি ছিল। পাইপলাইন চালু হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কমেছে এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রকল্পটি চালুর সময় বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে বিতর্কও দেখা দিয়েছিল। কিছু রাজনৈতিক দল ও সমালোচক দাবি করেছিলেন, পাইপলাইনটি দেশের স্বার্থবিরোধী হতে পারে। তবে সরকার তখন বলেছিল, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে।
বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
