বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সোমবার ভোররাতে ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম পাভেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
একটি ভিডিওতে পাভেল জানান, সেহরি করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল হলের ক্যান্টিনে গেলে কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। তার দাবি, হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যায়।
পাভেলের অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাভেলের রক্তাক্ত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি ‘দ্য রেড জুলাই’ নামে একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয় বলে জানা গেছে। পেজটিতে প্রায় তিন লাখ অনুসারী রয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্টে দাবি করেন, ৭ মার্চের ভাষণ পোস্ট করার জেরে ওই শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে শাহবাগ থানার সামনে থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে জানা যায়।
