ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্ররাজনীতির একটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
সোমবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম পাভেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭ মার্চের ভাষণ পোস্ট শেয়ার করার কারণে তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। এরপর কয়েক দফায় মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুয়েটের নজরুল হলের ক্যাফেটেরিয়ায় সেহরি খাওয়ার সময় প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন এতে অংশ নেন।
পরে তাকে বুয়েটের গেটে নিয়ে আবার মারধর করা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তুলে ঢাবির ভিসি চত্বরে এনে আরও এক দফা মারধর করা হয়।
এরপর রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নিয়ে আবারও তাকে মারধর করা হয়। সবশেষে শাহবাগ থানার সামনে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে কিল-ঘুষির পাশাপাশি বাইকের শেকল ও তালা দিয়ে পেটানো হয়। এতে তার হাতের আঙুল থেঁতলে যায় এবং পায়ে আঘাত পাওয়ায় তিনি ঠিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। বেশিরভাগ আঘাত চোখের দিকেই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে থানার সামনে তাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা সরে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় ঘটনাটি কাভার করতে গেলে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগও ওঠে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাভেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক কামাল জানান, শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষার্থীকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় আনা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়টি জানা আছে তবে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে, সেটি তাদের বিষয়। যদি কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
