নির্বাচনে কথিত “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর অভিযোগ তুলে সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেফতার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এর উত্তর গেইট থেকে একটি মিছিল বের করে সংগঠনটি।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজুয়ানা হাসান এবং সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, খলিলুর রহমান বর্তমানে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বক্তারা দাবি করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং অভিযোগ করেন যে নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রভাব খাটিয়ে ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, “জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারসাজির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।”
মিছিলে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত নেতারা বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন অভিযোগ যদি থেকে থাকে, তবে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি। তাই নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো বিতর্ক বা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা রিজুয়ানা হাসান কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট সূত্রে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি বড় নির্বাচনের পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তদন্তের দাবি জানায়। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।
এদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগের তদন্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা যেকোনো অভিযোগের সমাধান হওয়া উচিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সামগ্রিকভাবে, এ বিক্ষোভ কর্মসূচি দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।
