রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার বেপরোয়া বক্তব্য, অশালীন ভাষা এবং আক্রমণাত্মক আচরণে ক্যাম্পাসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সোমবার রাকসু ভবনে ছাত্র অধিকার পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আম্মারের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় উত্তেজিত হয়ে আম্মার চেয়ার ছেড়ে উঠে প্রতিপক্ষকে তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে মেহেদী মারুফ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে সেখানে আম্মার আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
মেহেদী মারুফ বলেন, “রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর জিএস আম্মার অশোভন মন্তব্য করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই কিছু পক্ষ এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তিনি কাজ করছেন।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, আম্মার প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে কটূক্তিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন। কেউ তার সমালোচনা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় একটি গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, “একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির আচরণ ছাত্রসুলভ হওয়া উচিত। কিন্তু তার অনেক কর্মকাণ্ডই অসংযত ও অশোভন।”
এর আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ঘটনায় আম্মারের বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে তিনি নিজেই ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটান এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও আলোচনায় আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “আম্মারের আচরণ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
