দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বহুবার কলম ধরেছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ। তাঁর লেখায় ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও রাষ্ট্রের ক্ষতির আশঙ্কা। কিন্তু সেই সাংবাদিকই এখন দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের প্ল্যানিং এডিটর থেকে তিনি প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। সাংবাদিকতা বিষয়ক রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় বছরের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান ও সেমিনারের নামে প্রায় ২৪ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়। এর মধ্যে সংগীতসন্ধ্যা, প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনারের বিল-ভাউচার রয়েছে।
দুটি সেমিনারে ২০০ জন করে মোট ৪০০ জন অংশগ্রহণকারীকে ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে বিল করা হয়। কিন্তু তালিকায় থাকা বহু সাংবাদিক জানান, তারা এমন কোনো সেমিনারে অংশ নেননি। অনেকের নাম ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এক সাংবাদিকের নামে ভাতা তোলার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তিনি তখন বিদেশে ছিলেন বলে জানান। আরও অনেক সাংবাদিক বলেন, তাদের স্বাক্ষর নকল করে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, কিছু দোকানের নামে যে ভাউচার তৈরি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো জানায় তারা এমন কোনো কাজই করেনি। অনেক ক্ষেত্রে ভাউচার ও স্বাক্ষর ভুয়া বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চারটি অনুষ্ঠানের নামে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, একটি দুষ্টচক্র ভুয়া বিল তৈরি করেছিল, কিন্তু তিনি সেটি অনুমোদন দেননি এবং পরে বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এসব বিল তৈরি করা হয়েছিল।
