সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিক সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (দুপুর ১টা) উপজেলা পরিষদসংলগ্ন প্রেসক্লাব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে।
আহত সামিউল মনির দৈনিক সমকাল-এর শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আটক দুজন হলেন শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলু রহমান এবং বিএনপি সমর্থক আবদুর রহিম।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলামসহ ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাকে মারধর করতে করতে ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, সামিউলের মাথার বাঁ পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকাল-এ ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সামিউল মনির বিভিন্নভাবে হুমকি পাচ্ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগের দিন এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনার জেরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলছিল। এ সময় সামিউল মনির তাদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তখন উত্তেজনার মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে বলে তার দাবি।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
