আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ছোট মন্ত্রিসভায় যাঁদের নাম’। খবরে বলা হয়, দীর্ঘ ২০ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নতুন মন্ত্রিসভা মোটামুটি চূড়ান্তও করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন ও পুরোনোদের মিশেলে এই মন্ত্রিসভার আকার শুরুতে ছোট হচ্ছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়া দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিশ্চিত। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর তাঁর বড় ছেলেও প্রধানমন্ত্রীর পদে বসছেন।
ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হবে আগামীকাল সকালে। ২১২টি আসনে জয়লাভ করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা, জল্পনাকল্পনা। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আদ্যোপান্ত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যাচ্ছে না। তবে মন্ত্রিসভার আকার এবং সম্ভাব্য মন্ত্রীদের বিষয়ে কিছু ইঙ্গিত মিলেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যের হবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল।
সব ঠিক থাকলে আগামীকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে বলে গতকাল রোববার জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, (সংসদ সদস্যদের) শপথের পরপরই তাঁদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবেন। এদিন বিকেল ৪টায় একই স্থানে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখা একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সময়ের প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সাজানো হবে। নতুন-পুরোনোদের সমন্বয়ে হতে যাওয়া এই মন্ত্রিসভার আকার বড় নয়, ছোট করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলাপ ও পরামর্শ শেষে নতুন মন্ত্রীদের তালিকাও মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই তালিকা এখন প্রকাশের অপেক্ষায়।
নতুন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিকল্প নামও শোনা যাচ্ছে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিতে আগ্রহী নন। এই অবস্থায় দলের দুই বর্ষীয়ান নেতাকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান। রাষ্ট্রপতি করা না হলে মঈন খানকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
সূত্র বলেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে তারুণ্যের শক্তি-উদ্দীপনার পাশাপাশি প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় জোর দিচ্ছে বিএনপি। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কাজ করবেন, এমন ব্যক্তিদেরই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে তাঁর ছেলের মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে। বিএনপির বিগত সরকারে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। পুরোনোদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নামও আলোচনায় আছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ফজলুর রহমানের নামও মন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বলে আলোচনায় আরও আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়া ববি হাজ্জাজ ও শাহাদত হোসেন সেলিমও। এ ছাড়া মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-১ আসনে জয়ী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিজয়ী মিজানুর রহমান মিনু, ঢাকা-৯ আসনে জয়ী হাবিব উর রশীদ হাবিব, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয়ী বিএনপির প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান ও যশোর-৩ আসনে জয়ী বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর। নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনে পরাজিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের নামও আছে আলোচনায়। আলোচনায় আরও আছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরও।
এদিকে বিএনপি জোটের শরিক দলগুলো থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নামও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আছে। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, এই তিন নেতার মধ্যে এক বা দুজনকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার চিন্তা করছেন তারেক রহমান। সূত্র বলছে, এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিজেপির চেয়ারম্যান পার্থ।
এর বাইরে বিএনপির চেয়ারম্যানের দুই উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জিয়াউদ্দিন হায়দারের নামও বিশেষ বিবেচনায় আছে বলে সূত্র জানায়। তবে তাঁদের মন্ত্রিসভায় নয়, বিশেষ কোনো সম্মানীয় পদে জায়গা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি কেমন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
১৩ দেশকে আমন্ত্রণ, আসছেন না মোদি
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মোট ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার রাতে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বাক্ষরে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের অন্যতম চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
তবে শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে—চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
প্রথম আলো
‘বিএনপির মন্ত্রিসভার আকার বড় হবে না’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষসহ সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের নানা তালিকা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও এসব তালিকার কোনোটিরই পুরোপুরি সত্যতা নেই বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬–২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ৯ থেকে ১০ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যোগ হতে পারেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবার মন্ত্রিসভা ছোট রাখার চিন্তা করছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, প্রবীণ-নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের নিয়ে এবার মন্ত্রিসভা করতে চান তারেক রহমান। কারা তাঁর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন, তা অনেকাংশে তিনি নিজেই ঠিক করছেন। এর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতাও যুক্ত রয়েছেন। অবশ্য গত শনিবার ও গতকাল রোববার রাতে তারেক রহমান দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও এ বিষয়ে নাম উদ্ধৃত করে প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নামও বিবেচনায় রয়েছে। এর বাইরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, জোটভুক্ত দলের নেতা, তরুণ নেতা, জেলা পর্যায়ের নেতা এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
কিছু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন-বিতর্ক ছিল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুশাসন ও নাগরিক সেবার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় আনা প্রয়োজন। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির যে সরকার ছিল, তাতে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এসব মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়নি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা না করেই তখন সঞ্চালন লাইন বসানো হয়েছিল, যা সে সময় ‘খাম্বা’নামে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত বিষয় ছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও সমালোচিত হয়েছিল।
২০০১-০৬ সালের সরকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। সন্ত্রাস নির্মূলের কথা বলে ২০০৪ সালে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তখনই উঠেছিল। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ ছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছিল।
একইভাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও তখন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। রাজধানীতে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যা সরকারকে বিব্রত করেছিল। প্লট বরাদ্দের ওই ঘটনা তখন সংবাদমাধ্যমে ‘বিএনপিপল্লি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে একটি দাতা দেশ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার সূচনা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার রূপ কেমন হবে, তা নিয়ে সব মহলের দৃষ্টি রয়েছে। কারণ, বিএনপির প্রধান তারেক রহমান ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান জাতীয় ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
শনিবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বিএনপির ৪৯.৯৭ শতাংশ জামায়াতের ৩১.৭৬’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়া ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট এককভাবে পেয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও মিত্ররা মিলিয়ে ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মিলে পেয়েছে ৩৮.৫২ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ৪৬টি দলই এক শতাংশের নিচে ভোট পেয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বাইরে ইসলামী আন্দোলন ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ৩ দিন পর রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দলভিত্তিক ভোটের হার প্রকাশ করল। সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও গণভোটে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়ে।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ২১১ জন বিজয়ী হন। যদিও দুটি আসনে ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করে ৬৮ আসনে বিজয়ী হন। আর এনসিপি ৩২ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এনসিপি আসন পেয়েছে ৬টি। ইসলামী আন্দোলন ২৫৭ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট করে একটি আসনে বিজয়ী হলেও পেয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ৩৪ আসনে রিকশা প্রতীকে কোনো আসন না পেলেও ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২৭৪ স্বতন্ত্র পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোট পেলেই পিআরে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে একটি আসন পাবে কোনো রাজনৈতিক দল। প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে সে হিসাব বের করে নির্বাচন কমিশন। রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সেটি হস্তান্তর করে বলে সূত্রে জানা গেছে। এই হিসাবে উচ্চকক্ষে বিএনপি ও মিত্ররা ৫১টি, জামায়াতে ইসলামীর জোট ৩৫টি আসন পাওয়ার কথা রয়েছে। যদিও বিএনপি দলীয় ইশতেহারে সংসদ-সদস্য অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বিন্যাসের কথা উল্লেখ করেছে।
এ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১১টি, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২ এবং খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয় সাতটি আসনে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেনি ইসি। যদিও আসন দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা বেশি ভোট পেয়েছেন।
জোটগত হিসাবে দেখা যায়, নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল, বিজেপি গরুর গাড়ি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করে। এর মধ্যে খেজুর গাছ ৪টি আসনে নির্বাচন করে পায় শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট, গরুর গাড়ি শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, ট্রাক প্রতীকে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাথাল প্রতীক শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, কোদাল শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জোটের আরেক শরিক এনডিএম ৮ আসনে নির্বাচন করে ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ববি হাজ্জাজ দলটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করেন। এ জোটে বিএনপি ছাড়া কোনো দলই ১ শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি। এ জোট মোট ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট।
কালের কণ্ঠ
‘এবারও রোজার আগেই নিত্যপণ্যের বাজার গরম’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রমজান সামনে রেখে মাছ-মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, ছোলা, খেজুর, লেবু ও বিভিন্ন ফলসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পুরনো প্রবণতা এবারও দৃশ্যমান। মৌসুম ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিলেও সাধারণ ভোক্তারা রয়েছেন উদ্বেগে।
বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য আসন্ন রমজান মাসে বাজারব্যয় সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যেসব লেবুর হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেগুলো এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং ৪০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাড্ডার খুচরা লেবু বিক্রেতা মো. হারুন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন লেবুর মৌসুম না হওয়ার কারণে বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। যার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুম শুরু হলে দাম স্বাভাবিক হবে বলে তাঁরা জানান।
মহাখালী কাঁচাবাজারে কথা হয় আফজাল খানের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার এক মাস আগে থেকেই লেবু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এটা তো আর আমদানি করে আনতে হয় না।
মূলত বাজারে তদারকি না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ এদিকে শবেবরাত থেকেই বাড়তে শুরু হয়েছে মাংসের দাম। একই সঙ্গে মসলাজাতীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। বর্তমানে দাম বেড়ে মানভেদে সোনালি মুরগি কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগিও দাম বেড়ে কেজি ১৯০ টাকায় উঠেছে।
গরুর মাংস বেড়ে কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই, তেলাপিয়া, কাতল মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই খেজুরের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও দাম কমেনি, বরং কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে কয়েকটি খেজুর কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা হচ্ছে’। খবরে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে। মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।
মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ আছে সংস্কার প্রস্তাবে
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ মন্ত্রী এবং ১২ প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে নামিয়ে ২৫ আনার সুপারিশ করে কমিশন।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। এমনকি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সুপারিশের পর প্রথমবারের মতো দলীয় সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাদে মন্ত্রণালয় হবে ২৫টি। এতে দুজন টেকনোক্র্যাটসহ মন্ত্রী হবেন ২৩ জন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন ১২ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব একজন, মুখ্য সচিব ১৭ জন ও সচিব থাকবেন ৪২ জন। একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং সমন্বয়ের জন্য একজন মুখ্য সচিব থাকবেন।
কেমন ছিল আগের মন্ত্রিসভা
সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুটি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দুটিকে একীভূত করেছে।
২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক
‘আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ঐক্যের সরকার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। কারা স্থান পাচ্ছেন তার মন্ত্রিসভায়? দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র এখন এনিয়েই যত জল্পনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রায় সর্বত্র এনিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ, অনুমান ও প্রত্যাশার কথা।
তারেক রহমানের ঘণিষ্ঠ ও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুরোপুরি বিএনপি-দলীয় সরকার হচ্ছে না। তারেক রহমানের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মিত্রদের মধ্যে যারা এবার বিএনপির সঙ্গে আসন-সমঝোতায় নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন তাদের সমন্বয়ে গঠন হতে যাচ্ছে ঐক্যের সরকার। মিত্র দলগুলোর জয়ীদের একাধিকজনকে দেখা যাবে মন্ত্রিসভায়। এছাড়া, মিত্র দলগুলোর মধ্যে যারা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, তাদের কাউকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এমনকি মিত্র দলগুলোর শীর্ষনেতাদের যারা জয়ী হতে পারেননি, কিংবা নির্বাচনে আসন ছাড় পাননি- তাদের কেউ কেউও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন, যদিও এই সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।
আর বিএনপির জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতাদের মধ্যে যারা অভিজ্ঞ, দলের দুর্দিনে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, আস্থাভাজন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তারা থাকছেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়। সবমিলিয়ে এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি প্রাধান্য থাকছে তরুণ ও মেধাবীদের। জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে সকল বিভাগ-জেলার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষত, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে উন্নয়ন-বঞ্চিত জেলাগুলো থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া, মন্ত্রিসভায় এক বা একাধিক নারীর প্রতিনিধিত্বও থাকছে বলে জানা গেছে।
স্পিকার, অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে হচ্ছেন- এনিয়ে কৌতুহল বেশি
নতুন সংসদের স্পিকার কে হচ্ছেন, এর পাশাপাশি বেশি কৌতুহল হচ্ছে অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কারা আসছেন। জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন থেকেই নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দলের ভেতর-বাইরের ঘণিষ্ঠ ও আস্থাভাজনদের সঙ্গে দফায়-দফায় পরামর্শ করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবিধান, আইন, কার্যপ্রণালী বিধি, রীতি-রেওয়াজ ও সংসদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও দক্ষ একজনকেই দেখা যাবে নতুন সংসদের স্পিকার হিসেবে। যদিও স্পিকার মনোনয়নের বিষয়টি আসবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকার পরে।
তবে, নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারা হচ্ছেন, এনিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ ও জল্পনা চলছে। বিএনপি সূত্র জানায়, দলের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির আলোকে অর্থনীতিকে সামলে নিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে দক্ষ ও অভিজ্ঞকেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর দলের বৈশ্বিক নীতির আলোকে ভারসাম্যমূলক কূটনীতি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম- এমন কাউকেই করা হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিএনপি জোটের ৫১ ভাগ ভোটে আসন ৭১ শতাংশ’। খবরে বলা হয়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে ভোট পেয়েছে ৫১.০৭ শতাংশ। তাদের আসন ৭১.৩৮ শতাংশ। আর জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে ভোট পেয়েছে ৩৮.৬২ শতাংশ। তাদের আসন ২৫.৯২ শতাংশ। সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে বিএনপি অধিক আসন পেয়েছে ৫৫ শতাংশ। ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি বলে ইসি থেকে জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে- এবারের নির্বাচনে দল ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি ২৯০ জন প্রার্থী দিয়ে প্রায় সব আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ পেয়েছে। যা এককভাবে প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন নির্দেশ করে। এই ফলাফল বিএনপিকে নির্বাচনের প্রধান নিয়ামক শক্তিতে পরিণত করেছে। বিএনপি জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ০.৪৭ শতাংশ, গণ অধিকার পরিষদ ০.৩৩ শতাংশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ০.৪ শতাংশ ও নাগরিক ঐক্য ০.১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
অন্য দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৭ জন প্রার্থী দিয়ে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আসন পেয়েছে ৬৮। আসন সংখ্যার তুলনায় ভোটের হার অনেক বেশি নিয়ে দলটি দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠিত ভোটব্যাংক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। জোটের শরিক দল এনসিপি ৩.০৫ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২.০৯ শতাংশ, খেলাফত মজলিস ০.৭৬ শতাংশ এলডিপি ০.৩৫ শতাংশ, এবি পার্টি ০.২৮ শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ০.১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংখ্যা, প্রতীক এবং প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়- এবারের ভোটযুদ্ধে একদিকে বড় দলগুলোর আধিপত্য, অন্যদিকে বহু ক্ষুদ্র দলের প্রতীকী উপস্থিতি মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক; কিন্তু অসম প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।
ধর্মভিত্তিক আরেকটি দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ জন প্রার্থী দিয়ে ২.৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও ভোটের হার সীমিত, তবুও সারা দেশে প্রার্থী দেয়ার মাধ্যমে তাদের সাংগঠনিক বিস্তার দৃশ্যমান।
জাতীয় রাজনীতির পুরনো খেলোয়াড় জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১৯৯ জন প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ০.৮৯ শতাংশ ভোট। অতীতের তুলনায় এই হার অনেক কম, যা দলটির জনভিত্তি তলানিতে ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া কয়েকটি ছোট ও মাঝারি দল সীমিত ভোট পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (০.৪৫%), কমিউনিস্ট পার্টি (০.০৮%) ইত্যাদি।
বেশির ভাগ ক্ষুদ্র দল ০.০-০.১০ শতাংশের মধ্যে ভোট পেয়েছে- যা কার্যত প্রতীকী উপস্থিতি ছাড়া কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। অনেক দল শতাধিক প্রার্থী দিলেও ভোটের হার শূন্যের কাছাকাছি। যা সংগঠন ও জনভিত্তির দুর্বলতার প্রমাণ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে ৫.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এবং ২৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন- এটি দেখায় স্থানীয় জনপ্রিয়তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
বণিক বার্তা
‘সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ আগামীকাল’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকালে এ শপথ অনুষ্ঠান হবে। একই দিন সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মঙ্গলবার দিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হচ্ছে। আমি ধারণা করছি যে এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পড়াবেন। বিএনপি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে ওনারা শপথের পরপরই সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করবেন। হয়তো সাড়ে ১১টা-১২টার দিকে। বিকাল ৪টায় সাউথ প্লাজায় (সংসদের দক্ষিণ প্লাজা) শপথ অনুষ্ঠান হবে মন্ত্রিসভার। আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি রাষ্ট্রপতির করার (পড়ানোর) কথা।’
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে কারা কারা আমন্ত্রিত এ বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কনভেনশন অনুযায়ী যাদের আমন্ত্রণ করার কথা তাদেরই করা হবে। এটা কেবিনেট ডিভিশন দেখছে। আজকে শুনেছি যে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্ক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলা হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে (আমন্ত্রণ জানানো) আমি কিছু জানি না।’
শপথ কেন দক্ষিণ প্লাজায় হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপি অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা যেহেতু আমাদের এ সংসদটা একটু ভিন্ন, মানে আমরা জুলাই ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, গণ-অভ্যুত্থানে অনেক আত্মত্যাগ, অনেক প্রাণহানির বিনিময়ে এ সংসদটা পেয়েছি। আর তাছাড়া এ সংসদ প্রাঙ্গণে অনেকগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদ এ দুটোকে ঘিরে যে অনুষ্ঠান সেটাও সংসদেই আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা হয়েছিল এটার পাশের জায়গাতে। সবার প্রিয় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন প্রকাশের একটা জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দক্ষিণ প্লাজা। হয়তো সবকিছু বিবেচনা করে ওনারা এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা সেটা অনুযায়ী আয়োজন করেছি।
গতকাল এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ওপর জোর দেয়, যা আমাদের দুই দেশকে আবদ্ধকারী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অবিচল প্রতিশ্রুতিকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
দেশ রূপান্তর
‘পুলিশে আবার শুরু রাজনৈতিক তদবির!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর আগামীকাল মঙ্গলবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন সরকার আসতে না আসতেই পুলিশে শুরু হয়ে গেছে ‘রাজনৈতিক তদবির’। ভালো ও লোভনীয় পোস্টিং পেতে এরই মধ্যে নানা মহলে তদবির করছেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। আবার গত দেড় বছর অতি উৎসাহী হয়ে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা একটু বাড়াবাড়ি করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাইরে চলে যাওয়ারও পাঁয়তারা করছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের ওই সূত্রটি দেশ রূপান্তরকে জানায়, পুলিশপ্রধান (আইজিপি) ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র্যাব মহাপরিচালকসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর প্রধান হতে জোর লবিং শুরু হয়েছে। যারা এসব পদে বসতে চাচ্ছেন তারা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে চলেছেন। এমনকি বিগত সময়ে যেসব কর্মকর্তা অবসরে চলে গেছেন, তারাও আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতেও জোরালো তদবির করছেন। সরকার গঠন এবং পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নিয়োগ হওয়ার পর এ তদবির আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম গতকাল পদত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশে। তবে দেশ রূপান্তর নিশ্চিত হয়েছে, গতকাল দুপুরের দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করলেও, তা গ্রহণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বলা হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আলোচনা করে পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে। বর্তমানে তিনি চুক্তিভিক্তিক নিয়োগে আছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই পুলিশে ব্যাপক রদবদল করে। তৎকালীন পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দমনপীড়ন চালায়। গুলিতে শিক্ষার্থী ও নিরীহ লোকজন, পুলিশ, আনসারসহ প্রায় আটশর বেশি প্রাণ হারায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা এই প্রথম। এই নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে এখনো। সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায়ের ১৮৪ কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। আবার পুলিশের শীর্ষ কর্তারাও চলে গেছেন ‘আত্মগোপনে’। পরে আইজিপিসহ পুলিশের সবকটি ইউনিটিতে শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কয়েক মাস পর আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের নিয়োগ বাতিল করে বাহারুল আলমকে আইজিপি ও শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সর্বাধিক আসন পেয়েছে বিএনপি। দলটি আগামীকাল সরকার গঠন করবে। ইতিমধ্যে দলটির অনুকম্পা পেতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলছেন।
