ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করা আসনের প্রায় ৪০ শতাংশে একাধিক অনিয়মের চিত্র পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার প্রকাশিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টিআইবি দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। এই ৭০ আসনের মধ্যেই ৪০ শতাংশে অনিয়মের ঘটনা পাওয়া গেছে পুরো ৩০০ আসনের ৪০ শতাংশ নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
৭০ আসনের পর্যবেক্ষণে টিআইবি যেসব অভিযোগ পেয়েছে:
- ভোটারদের জোর করে ‘নির্দিষ্ট মার্কায়’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে ৩৫.৭ শতাংশ আসনে।
- জাল ভোট দেয়া হয়েছে ২১.৪ শতাংশ আসনে।
- বুথ দখলের ঘটনা ১৪.৩ শতাংশ আসনে
- প্রতিপক্ষের পোলিং অ্যাজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া ১৪.৩ শতাংশ
- ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারার ঘটনাও একই হারে ঘটেছে অর্থাৎ ১৪.৩ শতাংশ আসনে।
- রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম পাওয়া গেছে ১০.৩ শতাংশ আসনে।
- ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের বাধা প্রদানের ঘটনা ৭.১ শতাংশ আসনে
- ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ ৭.১ শতাংশ আসনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে তুলনামূলক প্রতিযোগিতার লক্ষণ থাকলেও সময়ের সঙ্গে ‘পুরোনো রাজনৈতিক চর্চা’, আন্তঃদলীয় কোন্দল ও সহিংসতা বেড়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়নি? প্রশ্নোত্তরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামগ্রিকভাবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে এমন প্রমাণ তারা পাননি। তার ভাষায়, “নির্বাচন তুলনামূলক সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।”
তবে এগারো দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবি এবং প্রায় ১০ শতাংশ কারচুপির অভিযোগ তোলার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ না নিলেও টিআইবি বলছে, তৃণমূল পর্যায়ে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অনেকেই ভোটার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। যদিও একটি অংশ ভোট বর্জন করেছে যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সব মিলিয়ে টিআইবির মূল্যায়ন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম থাকলেও নির্বাচন “গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক” হয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি
