ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত যুবভিত্তিক দলটি অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের কিছু সমর্থক মনে করছেন, গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। তার ভাষ্য, জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এই জোট তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। অনেকেই এটিকে নতুন রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখেছেন। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তুলনামূলকভাবে সংগঠিত বিএনপির প্রতি সমর্থন বেড়েছে।
২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। দুই দশক পর দলটি পুনরায় সরকার গঠনের পথে রয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের হাতে। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনিই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।
এদিকে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
