বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন তার কাছে ‘প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন’ মনে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক চিত্র অনুপস্থিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, আগে প্রার্থীরা একে অন্যকে চিনতেন, এখন অনেক প্রার্থীই অচেনা।
মেজর হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় নতুন নতুন দল ও ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে সামনে আসছেন। তাদের অনেকেই এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এটি এক ধরনের বিলাসিতা। তার মতে, যারা সাধারণ নির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্য হওয়ার সক্ষমতা রাখেন না, তারাই উচ্চকক্ষের পক্ষে বেশি সোচ্চার।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ৩০০ সদস্যের সংসদই আন্তর্জাতিক মানের নয়, সেখানে আরও একটি কক্ষ যুক্ত হলে তাতে দেশের তেমন উপকার হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেজর হাফিজ। তার অভিযোগ, বর্তমান পুলিশ বাহিনী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে। তিনি পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠনের পক্ষে মত দেন।
তার প্রস্তাব, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অরাজনৈতিক ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের নিয়োগ দিয়ে নতুন একটি দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক কাঠামোগত পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে এসব শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন প্রয়োজন বলে মত দেন এই বিএনপি নেতা। তার মতে, পরিস্থিতি আদর্শ না হলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হয়তো পুরোপুরি নিখুঁত হবে না, তবে ভবিষ্যতে আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পথ তৈরি করতে পারে।
