ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তিনি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, ইসলামপন্থী উগ্রপন্থার বিস্তার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশটিতে বর্তমানে এক ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। হিন্দুদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে; অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরও একই ধরনের নির্যাতন চলছে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসে একটি “মুক্ত ও সুষ্ঠু” নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, জনমত জরিপে প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এদিকে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দাবিতে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ভোট বর্জন করেছে। শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, দলটিকে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রতিবাদে নেতাকর্মীদের ভোট বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন।
গণভোট প্রসঙ্গে এমপি বব ব্ল্যাকম্যান ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ইসলামপন্থী উগ্রবাদীরা যে গণভোটের ডাক দিয়েছে, তা বাংলাদেশের সংবিধানকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারকে বাংলাদেশের নির্বাচন মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানান।
জবাবে হাউস অব কমন্সের নেতা অ্যালান ক্যাম্পবেল জানান, তারা মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার রয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে নিয়মিত স্মরণ করানো হচ্ছে। অ্যালান ক্যাম্পবেল সকল প্রকার ধর্মীয় বা জাতিগত সহিংসতার নিন্দা জানান এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। তিনি বব ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনার আশ্বাস দেন এবং জানান, মন্ত্রণালয় উপযুক্ত সময়ে বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
