নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর যানজট কমানো, দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ৩ নম্বর সেতু এলাকায় যত্রতত্র অটোরিকশা ও সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ড, ক্যামেরাম্যানদের দৌরাত্ম্য এবং দর্শনার্থীদের জটলার কারণে সাধারণ মানুষ ও যাতায়াতকারীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ১৪ লেনবিশিষ্ট এই ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফিট সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এই মেগা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে অবাধে চলাচল ও যাতায়াতের মৌলিক অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী মহাসড়ক বা প্রধান সড়কে অবৈধভাবে যানজট সৃষ্টি, অননুমোদিত স্ট্যান্ড স্থাপন এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন সড়কটিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইনি বিধান বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত।
ছুটির দিনগুলোতে ও বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরাম্যানদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দাবি, দুর্ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেলের শিকার হচ্ছেন সাধারণ দর্শনার্থীরা।
হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আলী আহমেদ জানিয়েছেন, ৩০০ ফিট সড়কে যানজট ও হয়রানির অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমেই কেবল হাজার কোটি টাকার এই আধুনিক সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
