বিশেষ প্রতিবেদক : ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে নির্মমভাবে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পলায়ন এবং পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও নেপথ্য ভূমিকা নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের সুযোগে ৬ই আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৪৬ জন বন্দীর মধ্যে জেমিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ হাইকোর্টে শুনানিকালে প্রকাশ পায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছদ্মবেশী রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকতে পারে এবং পলাতক আসামি জেমির দেশত্যাগে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইন্ধন রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের আইনের আশ্রয়লাভ ও সুবিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার সুনির্দিষ্ট। একই সাথে কারাবন্দীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং পলায়নকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পুনরায় গ্রেফতার করা দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) ও কারাবিধি (Prisons Act) অনুযায়ী রাষ্ট্রের আইনি দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজি প্রিজনস (কারা কর্তৃপক্ষ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও আদালতভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আবরারকে হলে ডেকে নেওয়ার মূল পরিকল্পনা কেবল ভীতি প্রদর্শন হলেও জেমির চরম আগ্রাসী আক্রমণের কারণেই আবরারের মৃত্যু ঘটে।
একই সাথে জেমির বিচারিক লড়াই, আইনি সহায়তা এবং পরবর্তীকালে কারাগার থেকে পালিয়ে বিদেশে যাওয়ার পেছনে এক বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিকল্পনা ছিল বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।
আবরার ফাহাদের পরিবার ও বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পলাতক আসামি জেমিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে হাইকোর্ট বিভাগ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রদান করেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
