নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলাটি বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আবেদনের শুনানি ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-নথি পর্যালোচনার পর গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিজ্ঞ আদালত শেখ হাসিনাসহ মামলার সকল আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদেশ জারি করেন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়কার উত্তাল পরিস্থিতিতে মোঃ কফিল উদ্দিন বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কোনো মামলার বাদী মিথ্যা বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানাতে পারেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক নির্দেশনার অধীনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতসমূহ এ জাতীয় ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
পরবর্তীতে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত চালিয়ে মামলাটিতে আরও প্রায় শতাধিক আসামির নাম যুক্ত করেছিল।
তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে দুই মাস আগে বাদী কফিল উদ্দিন নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে আবেগের বশে ভুল মামলা করেছিলেন মর্মে জবানবন্দি প্রদান করেন।
বিজ্ঞ বিচারক বাদীর জবানবন্দি ও নথিপত্র অধিকতর পর্যালোচনার পর আবেদন মঞ্জুর করেন, যাকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম রাশেদ চৌধুরী ইতিবাচক ও আইনি সত্যের জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
একটি হাইপ্রোফাইল মামলার বাদীর নিজ উদ্যোগে ‘ভুল’ স্বীকার করে মামলা প্রত্যাহারের ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে দায়েরকৃত আবেগপ্রবণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আইনগত নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে।
