নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : রংপুর নগরীতে খোলা বাজারে ওএমএসের মাধ্যমে সরকারের ন্যায্যমূল্যের চাল ও আটা বিক্রিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা, কয়েক দফা হাতাহাতি এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বগতির বাজারে ভোর ৬টা থেকে লাইন ধরে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও শতাধিক প্রবীণ ও নারী খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বৈরাগীপাড়া এলাকায় ওএমএসের ট্রাক সেল কেন্দ্র করে চাল ও আটা প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়ে এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী নাগরিকদের অন্ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব। সরকারি সাহায্য বা ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা সরকারি খাদ্য নীতিমালার লঙ্ঘন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে ওএমএস ডিলারশিপ বরাদ্দ প্রদান, মজুদ নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার আইনি তদারকি পরিচালনা করে। তবে বিতরণস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত মানুষকে বাদ দিয়ে ডিলার তাঁর পছন্দের মানুষদের কাছে গোপনে চাল-আটা বিক্রি করে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বরাদ্দ শেষ ঘোষণা করেন।
নগরীর বৈরাগীপাড়ার ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম ও প্রবীণ নাগরিক সুজা মিয়া জানান, দীর্ঘ আট ঘণ্টা লাইনে থেকেও তাঁরা আটা বা চাল পাননি, ডিলারের অসাধু কারসাজির কারণে গরিব মানুষের রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তবে ডিলারের ম্যানেজার রমজান আলী জানান, ১ টন চাল ও ১ টন আটা দিয়ে কেবল ২০০ জনকে দেওয়া সম্ভব, অথচ সেখানে সাড়ে ৫০০ মানুষ উপস্থিত হওয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে।
খাদ্য বিভাগের তদারককারী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম জানান, নিত্যপণ্যের চরম মূল্যবৃদ্ধির কারণে ওএমএস পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি না পেলে এই সংকট নিরসন অসম্ভব।
রংপুর নগরীর নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ডিলারদের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ছে।
ভুক্তভোগী নাগরিকেরা অনতিবিলম্বে ওএমএসের বরাদ্দ দ্বিগুণ করার পাশাপাশি বিতরণস্থলে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
