নিজস্ব প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিনাশ ও শিক্ষার স্বাচ্ছন্দ্য অধিকার হরণের কঠোর প্রতিবাদে অনার্সের ফলাফলে প্রাপ্ত সরকারি বৃত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির দর্শন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্র শীল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করানো এবং অস্পষ্ট অভিযোগে ঢালাও বহিষ্কারাদেশের মুখে তিনি এই অভিনব প্রতিবাদের ডাক দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ রফিক-জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্র শীল স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ৩.৬৩ জিপিএ অর্জন করে সরকারি মেধা বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ব্যতিরেকে একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিচারিক নীতির চরম লঙ্ঘন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকার বজায় রাখা রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে একাডেমিক সিদ্ধান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করে থাকে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবন থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত করার পূর্বে প্রশাসনিক নিয়মাবলী অনুসরণ করা আবশ্যক।
বৃত্তি প্রত্যাখ্যানকারী শিক্ষার্থী শান্ত চন্দ্র শীল জানান, “বর্তমান জাবি প্রশাসন মব তৈরি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বাধার সৃষ্টি করেছে, এমনকি পরীক্ষার হল থেকে শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে চিরতরে বহিষ্কার করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নিহত প্রাক্তন ছাত্র শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের শাস্তির মুখোমুখি না করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য কামরুল হাসান উল্টো তাদের প্রশাসনিক প্রটোকল ও নিরাপত্তা দিয়ে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছেন।
বহিষ্কৃত ও সনদ বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একজন উচ্চ নম্বরধারী মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অভূতপূর্ব প্রশাসনিক প্রতিবাদ ও সরকারি বৃত্তি ত্যাগের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের আইনি অধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সকল অন্যায্য বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
