নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক বন্ডেড ওয়্যারহাউসে বন্ড-সুবিধায় আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ শুল্কমুক্ত মদ ও বিয়ার বেআইনিভাবে মজুত রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডিএনসি, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) যৌথ অভিযানে এই রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতি ধরা পড়ে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ডিএনসির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তদারকি ও সিলগালার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বাংলাদেশের দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২০ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর নিবন্ধিত ধারায় বন্ডেড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া রেকর্ড প্রদর্শন এবং অনুমোদনহীন মাদক রাখা শাস্তিযোগ্য ও অসংজ্ঞানাত্মক অপরাধ। কাস্টমস ও রাজস্ব বোর্ডের নীতিমালা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ ফৌজদারি আইনি বিধান বহাল রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) যৌথভাবে আমদানিকৃত পণ্যের ডিজিটাল এন্ট্রি ও ওয়্যারহাউসের নিরাপত্তা এবং রাজস্ব শৃঙ্খলার সার্বিক তদারকি পরিচালনা করে। অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিধান কার্যকর রয়েছে।
ডিএনসির তথ্যমতে, এনবিআরের সফটওয়্যারে পণ্য খালাস বা ‘এক্স বন্ড’ দেখালেও সরেজমিনে ওয়্যারহাউসে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি ও ৬ বোতল নেমিরফ ভদকা গচ্ছিত পাওয়া যায়।
এছাড়া গত ৩ সেপ্টেম্বর ইন-বাউন্ড হিসেবে নিবন্ধিত ২ হাজার ২৫০ কার্টন হাইনেকেন বিয়ার সফটওয়্যারে থাকলেও গুদামে তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
উক্ত চারতলা ভবনের দুটি তলায় কাস্টমসের আবশ্যকীয় অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর নিউগিনি এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিও এবং আশপাশের স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরপরই তাঁর শ্বশুরের এই গুদামে প্রশাসনিক অভিযান নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ মাদক মজুতের এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের সহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।
