নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের ঢালাও ছাত্রত্ব বাতিল, বহিষ্কার এবং শিক্ষার অধিকার হরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি আবেদন জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (OHCHR) আহ্বানে জার্মান ছাত্রলীগের চার প্রতিনিধি সুইজারল্যান্ডের সদরদপ্তরে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ ডেস্ক অফিসার থমাস হুনেকের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধিদলে অংশ নেন জান্নাতুন নাঈম, চৈতন্য সাহা, ইমতিয়াজ রাব্বি এবং তানভীর হায়দার রোহান, যারা রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর পক্ষে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ (UDHR)-এর অনুচ্ছেদ ২৬ এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICESCR) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষার সুযোগ প্রাপ্তি একটি সুনির্দিষ্ট অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার। অন্যায্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মব সহিংসতা বা আদালতের চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার কিংবা শিক্ষা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌথভাবে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ ও আইনগত শৃঙ্খলা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা বহাল রয়েছে।
জেনেভায় বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্য জান্নাতুন নাঈম জানান, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর দেশের প্রাচীনতম ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’কে নিষিদ্ধ করার সুযোগে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে গণ-নিপীড়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসচ্যুত করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার ফরিদা শহীদের আসন্ন বাংলাদেশ সফরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া এই অবিচারের বিষয়টি প্রধান অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার অজুহাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ জন এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জনসহ সারাদেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে সাময়িক ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেনেভায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক কারণে শিক্ষা বঞ্চিত ও অন্যায় বহিষ্কারের শিকার হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা নিশ্চিতের দাবি নতুন বেগ পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেশে অবিলম্বে শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
