নিজস্ব প্রতিবেদক : চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন হত্যা মামলার কারাবন্দী আসামি হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে রাডো সিরাজের জানাজার নামাজে পুলিশ বাহিনীর সরাসরি বাধা দেওয়ার নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে।
প্রথমে ইসলামবাগ ঈদগাহ মাঠে জানাজার প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার পর পরবর্তীতে স্থানান্তরকৃত স্থান ঐতিহাসিক লালবাগ শাহী মসজিদ এলাকাও কড়া পুলিশি বেষ্টনীতে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হাজী মো. সিরাজুল ইসলামের মরদেহ লালবাগ শাহী মসজিদে আনার সময় থেকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচরণ, শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতা পালনের সুনির্দিষ্ট মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা সম্পন্ন করার মতো ধর্মীয় রীতিতে আইনগত কিংবা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অধিকার ও মানবাধিকার সনদের নীতিমালার পরিপন্থী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং লালবাগ থানা পুলিশ যৌথভাবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জানাজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনো রাজনৈতিক জমায়েত বা অপ্রীতিম পরিস্থিতির সুরক্ষায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক প্রিন্স ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, “জীবিত থাকা অবস্থায় কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু জানাজার মতো ধর্মীয় শেষকৃত্যে পুলিশি বাধা দেওয়া এবং পুরো মসজিদ ঘিরে রাখা অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক।”
রাজনৈতিক জীবনে হাজী সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘসময় চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৬ সালেও মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর চানখারপুলে রাকিব হাওলাদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চে শাহেনুর রহমান হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড ভোগ করেন।
জানাজার মতো স্পর্শকাতর ধর্মীয় আয়োজনে প্রশাসনিক এই অতিরিক্ত কড়াকড়ির ঘটনায় পুরান ঢাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে ধর্মীয় অধিকার হরণের এই ঘটনার সুষ্ঠু কারণ ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক দ্বেষ ভুলে মানবিক ও ধর্মীয় রীতির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রয়োজন।
