ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত ধর্মীয় কাঠামো ও জনসংখ্যাতত্ত্বে আগামী দুই দশকের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সামাজিক রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’-এর বৈশ্বিক পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, উচ্চ জন্মহার ও অভিবাসনের কারণে ২০৪০ সালের মধ্যে ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টধর্মের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টধর্মের পর দ্বিতীয় স্থানে ইহুদি ধর্ম অবস্থান করলেও মুসলিমদের দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধির কারণে তারা শীঘ্রই ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের পেছনে ফেলে দেবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, জাতিসংঘের জনসংখ্যাতত্ত্ব নীতিমালা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা ও সামাজিক অবস্থান রক্ষার বৈশ্বিক অধিকার স্বীকৃত। বিশ্বজনীন অভিবাসীদের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক নিয়ম।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরো এবং আন্তর্জাতিক ডেমোগ্রাফিক গবেষণা সংস্থাগুলো যৌথভাবে দেশটির সামাজিক রূপান্তর ও সার্বিক জনমিতির তথ্য নিয়মিত তদারকি করছে। প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় আইনি নিশ্চয়তা বলবৎ রাখা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক লাখ করে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৮১ লাখে পৌঁছাবে।”
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০০৭ সাল থেকে আমেরিকান মুসলিম জনসংখ্যার যে ধারাবাহিক বৃদ্ধির হিসাব পাওয়া যাচ্ছিল, বর্তমানে তা দ্রুতগতিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে।
এর বিপরীত চিত্রে দেখা যাচ্ছে, খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীর হার ৭১ শতাংশ থেকে কমে ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না এমন নাস্তিক বা অ্যাগনস্টিক মানুষের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই পরাশক্তিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ক্রমাগত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, উচ্চ জন্মহারের পাশাপাশি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষ মুসলিম অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে গমনই মূলত এই ধর্মীয় রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি।
