নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ : কারাগারে থাকা স্বামীকে জামিনে মুক্ত করিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে নিজ ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত হযরত আলী মণ্ডল (৩৮) ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জনসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি মামলায় ওই নারীর (৪৫) স্বামী কারাবন্দি হন। স্বামীকে মুক্ত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ছোটাছুটি করার সুযোগ নিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন যুবদল নেতা হযরত আলী। জামিন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি প্রায়ই ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে একা পেয়ে তিনি গৃহবধূকে আপত্তিকর কুপ্রস্তাব দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হযরত আলী দ্রুত পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, হযরত আলীর গতিবিধি ও আচরণে আগেই সন্দেহ হয়েছিল। তাই তিনি আগেভাগেই ঘরের এক কোণে মোবাইল ফোনের ভিডিও অপশন চালু করে রেখেছিলেন। সেখানেই যুবদল নেতার অপরাধের দৃশ্য রেকর্ড হয়ে যায়।
পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে ওই নারীর স্বামী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও অভিযুক্ত যুবদল নেতা ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই হযরত আলী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।
