ফোরটিন ডেস্ক : সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সরকারের সঙ্গে যুক্ত তরুণ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এক বক্তা। এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমও বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
বক্তব্যে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলার প্রসঙ্গ টেনে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তার দাবি, সরকারপ্রধান বা সরকারের শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধেই যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
তবে ৬৬৬ কোটি টাকার বিষয়টি মূলত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে এনবিআরের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের পথ তৈরি করে। মামলাটি ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর দাবিকে কেন্দ্র করে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিতভাবে আগের রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছিল। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে পুনঃশুনানি হয় এবং ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন খারিজ করে।
মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী। ১৪ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালতও হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেনি। ফলে ওই সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর ছিল।
বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীদের সরকারের অংশীদার করার পর তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমের নাম উল্লেখ করে বক্তা তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
তবে বক্তব্যে উল্লিখিত ১০০০ কোটি, ১১০০ কোটি বা ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট মামলা, সরকারি নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এসব অভিযোগকে আপাতত বক্তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।
বক্তা আরও দাবি করেন, ৬৬৬ কোটি টাকা নির্বাহী আদেশে মওকুফ করা হয়েছিল এবং পরে আদালতে বিষয়টি আবার এসেছে। তবে প্রকাশিত আদালতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি গ্রামীণ কল্যাণের কর দাবিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিচারিক প্রক্রিয়া, যেখানে ২০২৪ সালে একটি রায় প্রত্যাহারের পর মামলাটি নতুন বেঞ্চে পুনঃশুনানি হয় এবং ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নতুন রায় দেয়।
তথ্য সূত্রঃ Ekattor TV
