নেপালে চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা অনায়াসেই দ্বিগুণ হতে পারত, যদি না নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি সঠিক সময়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতেন। তাঁর মাত্র কয়েক মিনিটের ত্বরিত পদক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বন্যার বিষয়ে সতর্ক করে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্রর কাছে পরপর চারটি ফোন আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বানের আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি পুরো স্কুল খালি করার নির্দেশ দেন। যে বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের দিকে আসছিল, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেসব শিশু ততক্ষণে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল, তাদের দ্রুত উঁচু স্থানে দৌড়ে আশ্রয় নিতে বলেন তিনি। এক অভিভাবক এসে যখন তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির মতে, সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য দেরি হলেই ঘটে যেত চরম বিপর্যয়। বিবিসির কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতাম, যদি আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি হতো, তবে আমি ও আমার শিক্ষার্থীরা আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেঁচে থাকতাম না।” এক শিক্ষার্থীও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা আক্ষরিক অর্থেই মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে অধ্যক্ষের এই উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ এখন চারদিকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
