চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ট্রান্সফর্মার চোর চক্র। অন্ধকার নামলেই বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে দামি এই সরঞ্জাম। গত তিন মাসে উপজেলাটিতে অন্তত ২৮টি ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গত দেড় মাসেই চুরি হয়েছে ২৫টি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, খোয়া যাওয়া ২৮টি ট্রান্সফর্মারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। হঠাৎ একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরির কারণে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মের ঘেরাটোপে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্জন সড়ক কিংবা ফসলি জমির পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোকে টার্গেট করে চুরি করছে চোর চক্র। দিন বা রাত—কোনো সময়ই নিরাপদ নয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে খুঁটি থেকে অনায়াসে ট্রান্সফর্মার নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।
পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ট্রান্সফর্মার চুরি হলে পুনরায় নতুন ট্রান্সফর্মার সংযোগের জন্য অর্ধেক মূল্য বহন করতে হয় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের। আর দ্বিতীয়বার একই স্থানে চুরি হলে পুরো টাকাই গ্রাহককে গুনতে হয়। এমনিতেই লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, তার ওপর নতুন ট্রান্সফর্মার বসাতে হাজার হাজার টাকা জরিমানাস্বরূপ চাঁদা বা অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা।
স্থানীয় একাধিক শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগীরা জানান, ট্রান্সফর্মার চুরির পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে টাকা তুলে নতুন ট্রান্সফর্মার এনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে হচ্ছে।
ট্রান্সফর্মার চুরির বিষয়ে মতলব উত্তর থানায় ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। চোর চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশ টহল জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মতলব (উত্তর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, “বিট অফিসারের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব চুরি করা যন্ত্রাংশ কোথায় বিক্রি হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ওয়াহিদুজ্জামানও জানান, “পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চোর চক্র অচিরেই ধরা পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”
ইতিমধ্যে কয়েকটি চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে এই তীব্র দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
