রংপুরের মিঠাপুকুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মো. রেদওয়ানের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার ৭ নম্বর লতিবপুর ইউনিয়নের নিঝাল এলাকায় অবস্থিত ‘তনকা দারুল নাজাত মডেল মাদরাসা ও এতিমখানা’র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সেখানকার আবাসিক কক্ষে থেকে পড়াশোনা করত। অভিযুক্ত শিক্ষক রেদওয়ানও ওই আবাসিকে থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও তদারকি করতেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মাদরাসা সংলগ্ন পূর্বদিকের দ্বিতীয় আবাসিক কক্ষে খাতা দেখার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন রেদওয়ান। শিশুটি কক্ষে প্রবেশের পর তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়।
ঘটনার সময় শিশুটির আত্মচিৎকার শুনে অন্য শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। পরিস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রেদওয়ান কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন ঘটনার বিবরণ ও পরিস্থিতির দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন।
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবরে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী শিশুটির নিরাপত্তা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রেদওয়ানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
