উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নতুন একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করিয়ে তাতে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। গত রোববার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তাঁকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ পুনরায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখায়। এ নিয়ে যুবলীগের এই শীর্ষ নেতাকে পঞ্চমবারের মতো জেলগেটে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাসেল পাঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৮টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি মামলাতেই তাঁকে এভাবে দফায় দফায় জেলগেটে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পূর্বের সবগুলো মামলায় তিনি উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন লাভ করেছিলেন। এমনকি, একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট ও চলমান মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে নতুন করে কোনো প্রকার হয়রানি বা গ্রেফতার না দেখানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাসেল পাঠানের প্রধান আইনজীবী সেকান্দার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, গত রোববার বিকেলেই এই যুবলীগ নেতার উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত জামিননামা ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। আইনিভাবে তাঁর কারামুক্তিতে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু জামিননামা পৌঁছানোর পর রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাঁকে ফের জেলগেট থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকার মো. রাকিব নামের এক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে ওই রাতেই তড়িঘড়ি করে বিস্ফোরক আইনে একটি নতুন মামলা দায়ের করানো হয় এবং সেই মামলায় রাসেলকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাসেল পাঠানের মা জোবেদা খাতুন। তিনি ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, “হাইকোর্ট হয়রানি বন্ধের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে মধ্যরাতে নতুন মামলা দায়ের করিয়ে রাসেলকে আবার গ্রেফতার করল। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি চরম অবিচার এবং উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবজ্ঞা।” উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন রাসেল পাঠান। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার আব্দুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন দায়ের করা একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় রাসেল পাঠানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” পুলিশ ছাড়া সাধারণ নাগরিক বিস্ফোরক আইনে মামলা করতে পারে কি না এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ বলেন, “কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি মামলা করতেই পারেন।” তবে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে নতুন মামলা সাজিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের এভাবে কারারুদ্ধ রাখার ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
