দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জোরপূর্বক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করে অবমাননা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সায়েন্সল্যাব) মোড় এবং উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দলে দলে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্লোগান দিতে থাকেন— “তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি! ফার্মের মুরগি! কে বলেছে, কে বলেছে? শিক্ষামন্ত্রী! শিক্ষামন্ত্রী!” তাদের এই স্লোগান মুহূর্তেই পুরো রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, দেশজুড়ে চলমান চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত এবং পরীক্ষার্থীদের সাথে দায়িত্বশীলদের অবমাননাকর আচরণের প্রতিবাদে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো:
- পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
- বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল ১৩ জুলাই যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, সেইসব শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া।
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
এর আগে গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এই আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণা অনুযায়ী আজ রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের পাশাপাশি রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেকে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করে এমন মরণপণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া একটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন মহলের সুপারিশ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় শিক্ষামন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না এবং দায় স্বীকার করে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই তীব্র আন্দোলনের বিপরীতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি জানায়, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সব বোর্ডের পরীক্ষা একসঙ্গে স্থগিত করলে ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কারণে কেবল এক বোর্ডের সমস্যায় সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার অবরোধস্থলগুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না এবং এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
