নিজস্ব প্রতিনিধি :বরগুনার বিভিন্ন এলাকা থেকে চলতি মাসের মাত্র ১৯ দিনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের এমন ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ড, নয়টি আত্মহত্যা এবং বাকিগুলো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বলে তিনি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ই জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার-সংলগ্ন একটি খাল থেকে শামীম বেপারী নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
এছাড়া বরগুনা সদরের বদরখালী এলাকায় এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা একজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গণপিটুনি ও কুপিয়ে হত্যা করে।
গত ১৩ই জুন পাথরঘাটা পৌর এলাকার একটি সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে দুটি ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, চাঞ্চল্যকর শামীম হত্যাকাণ্ডে তিনজন এবং চালক মিজানুর হত্যাকাণ্ডে দুজনসহ এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে গণপিটুনির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এর বাইরে গত ৬ই জুন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পৃথক দুটি কক্ষ থেকে এক নারীর সঙ্গে তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ত্রিফলা মৃত্যুর ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই নারী নিজে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের ক্ষেত্রে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পৃথক আইনি তদন্ত চালানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। জেলায় আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু রোধে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
