নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন অধ্যায়ে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও রাজপথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির আকস্মিক ও নাটকীয় উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মেরুকরণ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুনরুত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দমন-পীড়নের মুখেও আওয়ামী লীগের প্রতি জনসাধারণের একটি অংশের সমর্থন রয়েছে এবং দিন যত যাচ্ছে, দেশের আনাচে-কানাচে দলটির ঝটিকা মিছিল ও শোডাউনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম রাজপথ থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জেও আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল এবং “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” স্লোগানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবর্তিত জমানায় যেখানে দলটির অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্ব আত্মগোপনে বা কারাবন্দি, ঠিক তখনই তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন দুঃসাহসিক ও সুসংগঠিতভাবে রাজপথে ফিরে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই ‘সারপ্রাইজ’ পুনরুত্থানের চেষ্টা এবং মাঠপর্যায়ে শক্তি প্রদর্শনের দাবি মূলত বর্তমান সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের এই হঠাৎ গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার নেপথ্যে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দিকনির্দেশনা এবং ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক শোডাউন তৈরির সুপরিকল্পিত ছক কাজ করছে বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দেশের বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন করছেন, যা পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির এমন প্রকাশ্য মিছিল ও জনপ্রিয়তার দাবিকে বর্তমান সরকার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এক চরম ধৃষ্টতা এবং শহীদদের আত্মার সাথে নজিরবিহীন তামাশা হিসেবে বর্ণনা করছেন। সরকার সমর্থক ও বিরোধী দলগুলো বলছে, দেশের মানুষ স্বৈরাচারী ও দলীয়করণের রাজনীতিকে চিরতরে বর্জন করেছে; ফলে ভুয়া জনপ্রিয়তা ও ঝটিকা মিছিল দিয়ে জনসাধারণের মনে আবার জায়গা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলটির এমন অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনের রাজপথের রাজনীতিকে আবারও এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
