নিজস্ব প্রতিনিধি :
সময়ের সাথে সাথে ইউনুস সরকারের সকল অপকর্ম ফাঁস হচ্ছে। যে সরকারের একমাত্র এজেন্ডা ছিল আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্যাতন। এক লক্ষেরও অধিক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে তার আমলে। আর জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাটক সাজিয়ে চলেছে আওয়ামীলীগের নামে মিথ্যা অপপ্রচার।
যেমন আয়নাঘর, ৮৩২ ভড়ি স্বর্নালংকার, কারনে অকারনে ড্রোন উড়িয়ে প্রচার, আবু সাইদ ও মুগ্ধের মৃত্যু নিয়ে নানা নাটক, এখন জনগন মনে করে স্নিগ্ধ আর মুগ্ধ আলাদা কেউ না। ২৬ লক্ষ ভারতীয়, টাকা পাচার এমন শত শত নাটক রয়েছে ইউনুস সরকারের যার সবই সাধারণ জনগন গ্রহন করেনি। তেমনই একটি নাটক ছিল ৩১ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের অফিসার আলেপ উদ্দিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলেপের একজন সহকর্মী জানান, ৩১ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের অফিসার আলেপ উদ্দিন কে নিয়ে বিতর্কিত ইউনুস সরকারের আমলে বিভিন্ন মিডিয়াতে বেশকিছু নিউজ প্রকাশিত হয়েছিল। যে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং প্রথমে শুনলে যে কেউ বিশ্বাস করে তাকে ঘৃণা করবে এবং তার বিচার চাইবে।
তবে অভিযোগের বিষয়টি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এখানে বেশকিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। শবে কদরের রোজার সময় নাকি ভিক্টিমকে রোজা ভাঙিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে আলেপ! অবাক করা বিষয় হলো যিনি ভিক্টিম তাকে বা তার পরিবারকে সরাসরি চিনেন এমন কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। বলা হচ্ছে ভিক্টিম মারা গেছেন, এবং তার স্বামী কোন মামলা করবেন না। উনারা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন! এমন ইমোশনালি গল্পটা তৈরি করা হয়েছে যে কেউ শুনলে মাথায় রক্ত উঠে যায়। যাচাই-বাছাই না করেই সবাই আলেপের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি করছে, ফেসবুকে অনেক ইভেন্ট তৈরি হয়েছিল।
বাস্তবতা হলো এখানে আলেপ নিজেই সবচেয়ে বড় ভিক্টিম এবং অভিযোগের পুরো বিষয়টি কাল্পনিক। যার কারণে যারা এই গল্পটি বানিয়েছে তারা কৌশলে ভিক্টিম এবং তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখার কথা বলছে। ভিক্টিম যেহেতু মারা গেছেন, সুতরাং তার পরিচয় প্রকাশে আইনি সমস্যা থাকার কথা না। তাছাড়া এমন একটা ঘটনার বিচার চাইতে দেশের এই পরিস্থিতিতে ভিক্টিমের পরিবারের কেউ আদালতে যাবে না এটাও অবাস্তব। প্রকৃত ঘটনা হলো, র্যাবে কাজ করার সময় আলেপ অনেক জঙ্গি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। তাদের একটি অংশ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আলেপকে ফাঁসাতে এই গল্প সাজিয়েছে। ব্যাক্তিগত জীবনে আলেপ নিজে যথেষ্ট ধার্মিক এবং আমার জানামতে শত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও সে কখনও রোজা বাদ দিত না।
আলেপ খুব সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং তার কখনও কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তদবির করতে না পারায় পুলিশ হিসেবে চাকরি জীবনের ১১ বছরের মধ্যে ৯ বছর তাকে র্যাবে ফেলে রাখা হয়। র্যাব পুলিশ সদস্যদের জন্য ডাম্পিং পোস্টিং হিসেবে ধরা হয়। আলেপ সার্ভিসে একজন দক্ষ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিল বিধায় র্যাবের অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা তাকে পছন্দ করতো এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান তাকে দিয়ে পরিচালনা করা হতো।
আলেপের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করছে না। বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আলেপ জেলে ভালো নেই। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, চিকিৎসা কিংবা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি। যে হারে জেল হত্যা চলছে তাতে তার কাছের মানুষ সকলেই চিন্তিত। কখন কি হয়ে যায় সেই ভয়ে দিন কাটছে প্রিয়জন মানুষগুলোর।
