নিজস্ব প্রতিনিধি
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরকারের প্রচারণামূলক খবর প্রচারের সরকারি নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দেশখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তথ্য অধিদপ্তরের একটি অফিসিয়াল বার্তার স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি জনপ্রিয় একটি গানের কলি উদ্ধৃত করে বর্তমান সরকারের জনআস্থার দাবির কড়া সমালোচনা করেছেন।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) তথ্য অধিদফতর থেকে সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তা নম্বর ২৪২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, “দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী” এই বক্তব্যটি যেন প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘স্ক্রল’ আকারে প্রচার করা হয়।
তথ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার পরপরই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জুলকারনাইন সায়ের বিষয়টি নিয়ে উপহাস করেন। তিনি লোকসংগীতের একটি পঙক্তি ব্যবহার করে লেখেন, জোর করিলে দে’হ পাবি মনটা পাবি না — বন্ধুরে তোর নজর ভালো না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তার মাধ্যমে সায়ের মূলত এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, সরকারি আদেশে মিডিয়া ব্যবহার করে ‘আস্থা’র খবর প্রচার করা গেলেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বা ‘মন’ জয় করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসেই বিপুল জনসমর্থন ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই খবরটিকে বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্রলে প্রচারের জন্য সরকারি প্রেসক্রিপশন দেওয়াকে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
তথ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনাটির কপি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। বিশেষ করে সায়েরের পোস্টের নিচে নেটিজেনদের মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি এই ‘পিআর অ্যাক্টিভিটি’ নিয়ে মিশ্র জনমত তৈরি হয়েছে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের জোরপূর্বক প্রচারণাকে অনেকেই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে দেখছেন।
জুলকারনাইন সায়েরের এই পোস্টটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি ইশারা করেছেন যে নির্দেশনা দিয়ে চ্যানেলের পর্দা দখল করা গেলেও জনগণের আস্থা দখল করা কঠিন।
