নিজস্ব প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই এবং নির্যাতনের শিকার হয়েও দলের মধ্যে মূল্যায়ন না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি কর্মী এ কে সাহা নয়ন। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি দলটির বর্তমান কার্যক্রম ও নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের কথা তুলে ধরেন। নয়নের এই স্ট্যাটাস বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এ কে সাহা নয়ন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, রাজনীতির নেশায় তিনি অন্তত আটবার সরকারি চাকরির ভাইভা বোর্ড থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। পরিবারের নিষেধাজ্ঞা এবং আত্মীয়-স্বজনের বাধা উপেক্ষা করে দলের জন্য শ্রম দিলেও বিনিময়ে কিছুই পাননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তিনি লেখেন, এই বিএনপির জন্য আমার লাইফের অনেক ক্ষতি করেছি। বিনিময়ে বিএনপি থেকে কিছুই পায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার যে কোনো সময়ই পড়ে যাবে। আমাদের আসলে ভাগ্যটাই খারাপ। এত শ্রম দিলাম এখন আমাদের অস্তিত্ব হুমকির দিকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে যারা সরকার বা দলের শীর্ষ পর্যায়ে আছেন তারা ভালো থাকলেও সাধারণ কর্মীদের অবস্থা ভয়াবহ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, এখন বিএনপিকে অভিশাপ দিতে মন চাইছে, সেটাও পারছি না।
৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নয়ন জানান, তিনি কোনো লুটপাটের সাথে জড়িত হননি এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যেমন আওয়ামী লীগ, জামায়াত বা এনসিপির কোনো ক্ষতি করেননি। লেখালেখির সুবাদে রাজনৈতিক বিরোধিতা করলেও কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, কারও থেকে দশটি টাকাও তিনি লুট করে খাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ কে সাহা নয়নের এই স্ট্যাটাস কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষোভ নয়। বরং এটি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। ৫ই আগস্টের পর দলের একটি অংশ সুবিধাজনক অবস্থানে গেলেও যারা ত্যাগী কর্মী, তারা আগের মতোই অবহেলিত রয়ে গেছেন। নয়নের এই “নেতিবাচক” মূল্যায়ন এবং দলের কাজ নিয়ে তার বিরূপ মন্তব্য বিএনপির হাইকমান্ডের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলের প্রতি চরম অভিমান থেকে নয়ন জানান, তার দেওয়া শ্রমের বিনিময়ে আজ তার অস্তিত্বই হুমকির মুখে। এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অনেকেই দলের অভ্যন্তরে সুশাসনের অভাব এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন।
