“আমি আমার সহকর্মীদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম, আর কখনও বিচার চাইব না। আমাকে আমার ছোট বাচ্চার কাছে যেতে দিন।”—ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে যাওয়ার পথে এক পুলিশ সদস্যের এই বুকফাটা আর্তনাদ আজ পুরো দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার জুলাই দাঙ্গার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়ের এই কান্না শুধু একজন ব্যক্তির আর্তি নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সুপরিকল্পিত নৃশংসতার পর চলমান বিচারহীনতার এক জীবন্ত দলিল।
শোয়াইবুর রহমানের অপরাধ ছিল তিনি ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গায় নির্মমভাবে নিহত হওয়া হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। সতীর্থদের রক্তের মূল্য চাওয়ায় আজ তিনি নিজেই মামলার আসামি এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি একজন সৈনিকের সন্তান, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যদি প্রমাণিত হয় তিনি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, তবে যেন তাঁর ফাঁসি দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের সেই জুলাই দাঙ্গা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বিদেশি রাষ্ট্রের বিপুল অর্থায়ন, সীমান্ত পেরিয়ে আসা জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়তা এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ কাঠামোর মদতে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই সময় যারা কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, আজ তাঁদের বিচার চাওয়াকেই ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। শোয়াইবের প্রশ্ন—আইজিপি বা কমিশনারের অজান্তেই কেন তাঁকে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে?
