বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে সত্যকে মিথ্যা করা এবং জাতীয় অর্জনকে হেয় প্রতিপন্ন করার এক ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার যে ধারা ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার শুরু করেছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি সরকার ইউনূস আমলের কথিত মেগা লোপাট ও অনিয়মগুলোকে আড়াল করতে এবং সেগুলোকে বৈধতা দিতে বেশি আগ্রহী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পূর্ববর্তী সরকারের সাফল্যকে কলঙ্কিত করার রাজনৈতিক কৌশল এখন জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউনূস আমলে দুর্নীতির সূচক ২৭ থেকে ১০-এর ঘরে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমান সরকারের মাত্র এক মাসের শাসনামলেই যে হারে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক দুর্নীতির সূচকে শীর্ষস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বর্তমানে মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অনিয়ম এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। সরকারি প্রকল্প, টেন্ডার এবং নিয়োগ-বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে, যা দেশের অর্থনীতির গতিকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগ আমলের স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত প্রকল্পগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘লোপাট’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন চিত্রটি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
এই অপপ্রচারে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা বিদেশি বিনিয়োগের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এখনই দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে অতীতের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে।
