নিজস্ব প্রতিনিধি
সরকার বলছে তেলের কোনো অভাব নেই, ব্যবসায়ীরা বলছেন সরবরাহ সংকটের কথা। কিন্তু এই দুই পক্ষের ‘বক্তব্য যুদ্ধের’ মাঝে পড়ে খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। ঈদের আগে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি পাম্পের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেলের খোঁজে আসা মোটরসাইকেল চালক স্বপন মোল্লা জানান, বাইক রিজার্ভে রেখে অনেক ঘোরার পর অবশেষে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে তেল পেয়েছেন। কিন্তু সবার ভাগ্য তার মতো সুপ্রসন্ন নয়।
বেসরকারি গাড়ি মালিক শারমিনের ড্রাইভার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি। আড়াই ঘণ্টা পর জানানো হয় তেল শেষ, আসবে দুপুর ২টার পর। এই অনিশ্চয়তা এখন রাজধানীসহ সারাদেশের মোড়ে মোড়ে। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা। তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করেছিল সরকার। ১৫ মার্চ সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক’ কাটছে না।
সরকারের পক্ষে মন্ত্রী বলছেন,দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, অতিরিক্ত চাহিদাই মূল সমস্যা। বিপিসি বলছে, সরবরাহ গত বছরের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পাম্প মালিক সমিতি বলছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না; সরবরাহ বাড়লে আতঙ্ক কমবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মঙ্গলবার সচিবালয়ে জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের দাবি সরকার মুখে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও বাস্তবে পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। পাম্পে তেল না পেয়ে সাধারণ মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল মজুতের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না। যদি সত্যিই মজুত থাকে, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করে পাম্পে তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এই কৃত্রিম সংকট এবং দীর্ঘ লাইন জনজীবনে আরও অস্থিরতা তৈরি করবে।
