সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সড়ক সংস্কারে প্রায় ২৩ লাখ টাকার প্রকল্প দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছে উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন মাছুমের বাড়ির সড়ক সংস্কারের জন্য।
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের টাকা অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। এটি কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের নীতিমালারও পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও সরকারি বিধি উপেক্ষা করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদেগোরেমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন মাছুম তার বাড়ির সড়ক সংস্কারের জন্য ডিসির কাছে প্রকল্পের আবেদন করেন। তবে সড়কটি ফসল রক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখে না এবং অতীতে সেখানে হাওরের কোনো প্রকল্পও নেওয়া হয়নি।
এ কারণে উপজেলা কমিটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) টেকনিক্যাল কমিটি প্রথমে আপত্তি জানায়। পরে বিষয়টি জেলা কমিটির মতামতের জন্য পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা কমিটিতে আলোচনা না করেই ডিসি ইলিয়াস মিয়া গোপনে উপজেলা কমিটিকে নির্দেশ দেন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য।
পরে বরাদ্দ পাওয়ার পর হেলাল উদ্দিন মাছুম তার ভাই মিজান উদ্দিনকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে মাত্র কয়েক ইঞ্চি মাটি ফেলে প্রকল্পের প্রায় পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধের প্রয়োজন নেই। অথচ এই বাঁধের টাকার প্রকল্প এনে দুই ভাই মিলে বরাদ্দের টাকা লুটপাট করছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, এলাইনমেন্ট না থাকায় তারা প্রথমে প্রকল্প দিতে চাননি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলেন, “প্রকল্পটি নিয়ে জেলা কমিটিতে কোনো আলোচনা হয়নি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “আমি জেলা কমিটির সভাপতি। আমার ক্ষমতাবলে প্রকল্পটি করেছি।”
