মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি, যারা জানিয়েছেন তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচজন শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের হাতে থাকা পুষ্পস্তবকের মাঝে সাদা কাগজে লেখা ছিল “জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি”।
শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা মিষ্টি সুভাষ। তিনি গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন এবং একাধিকবার আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন।
সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, পুষ্পস্তবকের মধ্যে রাখা কাগজটি তার কাছে ছিল এবং সেটি বের করার সময় একজন তা লক্ষ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটি হলেও শেষ পর্যন্ত তারা বাধাহীনভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সক্ষম হন। তার সঙ্গে রুবেল, রায়হান ও হাসিব নামে আরও কয়েকজন ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে একই দিনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা স্লোগানের মুখে এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তবে শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ব্যক্তিরা কোনো বাধার মুখে পড়েননি।
শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মিষ্টি সুভাষ বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির শহীদ মিনারে উপস্থিতি জাতির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দলের কার্যক্রম সীমিত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সমর্থকরা বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। মিষ্টি সুভাষ গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন এবং পরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হন। কয়েকটি মামলায় তাকে কারাবাসও করতে হয়।
