ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি কার্যক্রমের ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে।
হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে বিস্ফোরক তৈরির ল্যাবের অস্তিত্বের তথ্য পেয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরক ও সুইসাইড ভেস্ট তৈরির কার্যক্রম চলছিল।
এই নাশকতা পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সক্রিয় সদস্য আল আমিন শেখ রাজিব। তিনি ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে মাদ্রাসাটিতে রাসায়নিক ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহৃত ভেস্ট তৈরির সরঞ্জামও সেখানে মজুত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, রাজিবের নেতৃত্বে বড় কোনো স্থাপনা বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় হামলার ছক কষা হচ্ছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জামিনে মুক্ত একাধিক শীর্ষ জঙ্গির পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক আবার সংগঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি কিছু মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই বা অতীতের হামলাগুলো ‘নাটক’ ছিল এমন প্রচার চালানো হলেও কেরানীগঞ্জের এই ঘটনা সেই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গিবাদ অস্বীকার করার প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
