ফোরটিন ডেস্ক : লটারি জেতা মানেই আমরা বুঝি নিছক ভাগ্য কিংবা ভাগ্যের চক্র। তবে সব ধারণা ও প্রচলিত হিসাব বদলে দিয়েছিলেন রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল। ভাগ্যের দয়ার ওপর হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বিশুদ্ধ গাণিতিক হিসাব ও ঝুঁকির কৌশল কাজে লাগিয়ে জীবনে মোট ১৪ বার লটারির জ্যাকপট জিতে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ম্যান্ডেলের লটারি জয়ের কৌশলটি শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ করা ছিল অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। কোনো লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশন যদি সীমিত হয় এবং সব কম্বিনেশনের টিকিট কেনার খরচ মোট জ্যাকপটের চেয়ে কম হয়—তবেই সেখানে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার গাণিতিক সুযোগ তৈরি হয়।
৫০-এর দশকে রোমানিয়ায় দুবার লটারি জিতে সেই টাকায় পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান ম্যান্ডেল। সেখানে আন্তর্জাতিক লোটো ফান্ড (International Lotto Fund) নামের এক বিশাল বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাহায্যে হাজার হাজার কম্বিনেশন প্রিন্ট করে আরও ১২ বার লটারি যেতেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ম কঠিন হলে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে নজর দেন তিনি।
সেবার ভার্জিনিয়ার লটারিতে মোট সম্ভাব্য কম্বিনেশন ছিল ৭১ লাখ এবং জ্যাকপট লটারির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ম্যান্ডেল প্রায় ২৫০০ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনেন। নিখুঁত পরিকল্পনার জোরে সেবার ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মূল জ্যাকপট জিতে নেন তিনি।
ঘটনাটির পর আমেরিকান ও অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ তদন্ত করলেও ম্যান্ডেলের এই গাণিতিক কৌশলে কোনো অবৈধ কিছু খুঁজে পায়নি। তবে পরবর্তীতে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যেন এভাবে এককভাবে সব টিকিট কিনতে না পারে, সে জন্য বিশ্বজুড়ে লটারির আইনে বড় পরিবর্তন আনা হয়।
অবশ্য ১৪ বার লটারি জিতে ইতিহাস গড়লেও এই গল্পের শেষটা কিন্তু সুখকর ছিল না। টিকিট কেনা, পরিচালনাব্যয় ও আইনি লড়াইয়ের মাশুল গুনতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের অর্থ কমে যায় এবং ১৯৯৫ সালে ম্যান্ডেল নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
