নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : খুলনায় এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হওয়ার পর রাতে একা চলাচল না করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে সেই চিঠি গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়ে সমালোচনার সৃষ্টি করায় বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খুলনা জেলা পুলিশ।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ ও ১৫২ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশ আইন ও প্রবিধান (Police Act, 1861) অনুযায়ী জননিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নীতিমালা বজায় রাখার বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দফতর এবং খুলনা জেলা পুলিশ অপরাধ দমন ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত।
গত শুক্রবার পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, রূপসা ফেরিঘাট এলাকায় পরিদর্শক মো. শাহ আলম গভীর রাতে ছিনতাইকারীর চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের সাদা পোশাকে ও একা চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে।
অভ্যন্তরীণ এই সতর্কতামূলক চিঠিটি জনসমক্ষে প্রকাশ পাওয়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
রবিবার রাতে খুলনা জেলা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্দেশনাটি ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কারো দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধ দমনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। [DETAIL NEEDED: অভ্যন্তরীণ নির্দেশনামূলক এই চিঠিটি কোন সূত্র থেকে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছিল, তা তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি]।
খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বার্তা দেয় না এবং অপরাধ দমনে পুলিশ আগের মতোই তৎপর রয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের প্রবণতা রোধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
