নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ক্ষোভ, উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের সামনে শেষ বিদায় জানাতে আসা সাধারণ মানুষ ও তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের ওপর স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ ও তৎসংলগ্ন সায়েন্সল্যাব মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের কলকাতায় মারা যাওয়া রোটনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধানমন্ডিতে তাঁর বাসায় শেষবারের মতো দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ধানমন্ডি এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের চেষ্টা করা হলে বাধা দেওয়া হয়। এই সময় সায়েন্সল্যাব মোড় সংলগ্ন রাজপথে অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং বার বার জানাজার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডিতে জানাজার সুযোগ মেলেনি।
এদিকে তাকওয়া মসজিদের সামনে সাধারণ জনতা ও শুভানুধ্যায়ীরা জড়ো হলে বিএনপির যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেন। এ সময় চারজনকে আটক করে ধানমন্ডি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে মরদেহ পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি এবং কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।
স্বজনদের ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বার্তায় বলা হয়, একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন রাজনৈতিক আচরণ চরম অমানবিকতার শামিল। মৃত্যুর পর স্বজনদের শেষ বিদায়টুকু জানানোর সুযোগ না দেওয়া একটি অত্যন্ত দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতিতে পুলিশি সুরক্ষায় রোটনের লাশবাহী গাড়িটি তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রামের রাউজানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানেই তাঁর মা-বাবার কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুত চলছে।
