নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সনাতন ধর্মীয় পঞ্জিকা ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী দুর্গার নৌকায় গমনের ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরতে তৈরি করা প্রতিমার প্রতিকৃতি থেকে শেষ মুহূর্তে নৌকা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরশহরের মিলন সংঘ মন্দিরে আয়োজিত পূজামণ্ডপে সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমনের রীতি অনুসরণ করে মণ্ডপের প্রতিমায় নৌকার অংশটি যুক্ত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ধর্ম পালন, চর্চা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম আইনি দায়িত্ব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশে সার্বজনীন দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করে থাকে।
শাহজাদপুর উপজেলার মিলন সংঘ মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেই মৃৎশিল্পীরা প্রতিমার নকশায় নৌকার প্রতিকৃতি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
তবে পূজার মাত্র কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশে প্রতিমা থেকে নৌকার আদলে তৈরি অংশটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন মৃৎশিল্পীরা, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দত্ত জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার আলোকেই মন্দির কর্তৃপক্ষকে নৌকাটি সরিয়ে ফেলার কথা জানানো হয়।
ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক নির্দেশনার মধ্যকার এই টানাপোড়েনে শেষ মুহূর্তে পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন মণ্ডপের নিরাপত্তা বিধান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
