নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৪) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অর্জিত আলামত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আততায়ীদের হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে বিস্তীর্ণ একাধিক ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তি করেছিল কিশোরীটি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ফসলি মাঠ থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো ও বস্ত্রহীন অবস্থায় উক্ত স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তাজমিন যশোর সদরের বাসিন্দা ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনেটায় কর্মরত আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের আইনি সুরক্ষার মৌলিক অধিকার রয়েছে। একই সাথে ধর্ষণ, অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইনি বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ, পিবিআই (PBI) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও এ জাতীয় জঘন্য অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আসামি গ্রেফতাদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহন করে।
ঘটনাস্থলের চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছ এলোমেলো ও ধস্তাধস্তির স্পষ্ট চিহ্নসহ সেখান থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং দুর্ঘটনাকবলিত পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় অধিবাসী রুহুল আমিন ধানক্ষেতে তাজমিনের মাথা কাদায় পোঁতা ও গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানান, প্রাথমিক আলামতে এটি শ্বাসরোধে হত্যা বলে ধারণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মূল সত্যতা জানা যাবে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে নিবন্ধিত অটোরিকশাটির সূত্র ধরে ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক ইউনিট ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে।
