আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের নিয়মিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের বক্তব্য বিকৃত করে ‘ডিসেম্বরে ফিরছেন না শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ভুল সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম সময় টেলিভিশনের বিরুদ্ধে। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনে জয়সওয়ালের ছবি ও উক্তি ভুলভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে তথ্য-যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে যে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, সময় টিভির প্রচারিত প্রতিবেদনের শিরোনাম তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, প্রেস কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী গণমাধ্যমে সঠিক, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন করা আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
কূটনৈতিক নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) এবং পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “There is no change in our approach to the matter. Any extradition matter is a legal issue, as you very well know, and it will be dealt with accordingly.”
তিনি স্পষ্ট জানান, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের পূর্ববর্তী অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামোর আওতায় মোকাবিলা করা হবে।
পূর্ববর্তী সময়ে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় মুখপাত্র কখনোই তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সরাসরি নাকচ বা অস্বীকার করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যুতে মূল বক্তব্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা রক্ষায় গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
