নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে দেশের সাবেক জনপ্রতিনিধি ও সাবেক সংসদ সদস্যদের গণহারে গ্রেপ্তার, একের পর এক মামলা প্রদান এবং কারাবন্দী অবস্থায় চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও তথ্যানুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সর্বমোট ১৩৪ জন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ বেড়ে বর্তমানে ১৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বন্দিদশায় বিনা চিকিৎসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলসমূহ।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ এবং ৩২ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। একইসাথে কারাবিধি (Prisons Act, 1894) এবং দ্য ইউনিভার্সাল ডিক্লেয়ারেশন অফ হিউম্যান রাইটস (UDHR) অনুযায়ী কারাবন্দীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা রাষ্ট্র ও কারা কর্তৃপক্ষের আইনি বাধ্যবাধকতা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিচারপ্রার্থী ও কারাবন্দীদের আইনি অধিকার সুরক্ষার প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, কারাবন্দী অবস্থায় মৌলিক মানবাধিকার ও যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর শারীরিক জটিলতায় কারাগারের ভেতরেই ২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে অস্থায়ী জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে আরও ২ জন সাবেক এমপি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ১৩৫ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৭ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণে আদালত থেকে অস্থায়ী জামিনে মুক্ত রয়েছেন মাত্র ১৩ জন।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যদের ওপর দায়েরকৃত মামলাকে মিথ্যা দাবি করে অনতিবিলম্বে সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রতিটি মামলার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার বিভাগীয় নির্দেশে আসামিদের কারাগারে রাখা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
